ইভ্যালি এবং বাংলাদেশ এ ইকমার্স নিয়ে কিছু কথা

ইভ্যালি কি আসলেই প্রতারণা করছে?

রিসেন্টলি ইভ্যালি নিয়ে হওয়া ইস্যুটা নিয়ে সবাই জানেন। এবং আজ কয়েকদিন ধরে সবগুলো গ্রুপে মোটামুটি এই টপিকটাই বারবার চোখে পড়ছে। কিছু কথা লিখব লিখব করেও লেখা হয়ে উঠছিল না। আজ ভাবলাম লিখে ফেলি। এই লেখা পড়ে যদি কেউ আমাকে দালালও বলতে চান ইউ আর ওয়েলকাম। যাই হোক,

আরো পড়ুনঃ রবির ২০২০ নতুন ডাটা অফার

ইভ্যালি নিয়ে টুকটাক লেখালেখি আগেও হয়েছে। কিন্তু রিসেন্টলি প্রথম আলোতে নিউজটি আসার পর এই বিষয়টি খুব ভাইরাল হয়। এর আগে শ্রদ্ধেয় মাহবুব কবীর মিলন স্যার ও এটা নিয়ে লিখেছিলেন। প্রথম আলোতে নিউজটি হয়েছে বা করেছে গ্রাহকের ভালর কথা চিনতে করেই। কিন্তু শিরোনাম টি কোনভাবেই মূল থীম এর সাথে যায়না। কারণ ভোগান্তি, প্রতারণা সন্দেহ প্রতেকটি আলাদা টার্ম।

ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত


ইভ্যালিতে অর্ডার করে অনেকেই ভোগান্তির স্বীকার হয়েছে, আমিও হয়েছি। এই ভোগান্তি আর প্রতারণা কি একই জিনিস হলো? টাইম ঘুরানো বা রিফান্ড দিতে লেট করাটা ভোগান্তির আওতায় পড়ে, কিন্তু টাকা মেরে দেয়া বা একটা বলে আরেকটা দিয়ে দেয়া প্রতারণার পর্যায়ে পড়ে। ইভ্যালীর ভোগান্তি নিয়ে ইভ্যালি নিজেও স্বীকার করে। কিন্তু ইভ্যালি কারো টাকা মেরে দিয়েছে এমন কোন অভিযোগ দেখিনি। এই ভোগান্তির রেশিও প্রোডাক্ট ডেলিভারির কত %? যেমন, আমি এই পর্যন্ত বেশ কিছু প্রোডাক্ট কিনেছি নিজের জন্য বা নিজের পরিচিত কারো জন্য। বেশ কয়েকটা মোবাইল, ফ্যান, ডিএসএলার, প্রিন্টার, আরো কিছু গ্যাজেটস, গ্রোসারী। অনেকগুলো অর্ডার এর মধ্যে প্রথম দিকের মোবাইলগুলো ১.৫ মাসের মধ্যে পেয়েছি। পরে এই সময়গুলো আরো কমেছে। ১টা মোবাইল অর্ডার দেয়ার পর দিচ্ছিল না, পরে রিফান্ড চাওয়ার পর রিফান্ড দিবে বলে পরে আবার মোবাইলটিই কালেক্ট করে দিয়েছে। আর ১টা রিফান্ড ওয়ালেট এ দিয়েছে। আরেকটা রিফান্ড আমার পার্সোনাল বিকাশ এ দিয়েছে। আমি আমার ম্যাক্সিমাম অর্ডারগুলোই ঠিকঠাক মত পেয়েছি। পরিচিত অনেককেই জিজ্ঞেস করেছি যারা কিনেছে তাদের ও সেম, এই নেগেটিভ অর্ডার এর রেশিওটা ৫-১০% এর বেশি না। কিন্তু যারা বলেছেন ৫-১০/২০% ডেলিভারি পায়/পাচ্ছে বাকীরা পাচ্ছেনা আপনারা এই ডাটা কোথায় পেয়েছেন? কাইন্ডলি শেয়ার করবেন? আমি আমার প্রত্যেকটা কথার ডেলিভারীর স্ক্রীনশট দিতে পারব। আমি ইস্যুগুলোর সমাধান কিভাবে পেয়েছিলাম, আমি ইস্যুতে গিয়ে ক্যাটাগরি অনুযায়ী রিপোর্ট করতাম, এখানে রেস্পন্স না পেলে কাস্টমার কেয়ার এ কল দিয়ে ইনভয়েস নাম্বার বললে ওরা সেটার সল্যুশন দিয়েছে। আমাদের একটা অভ্যাস হচ্ছে সঠিক প্রসিডিউর না মেনে রুলস না জেনে সমাধান চেয়ে বসা।

ইভ্যালির বিরুদ্ধে আসা সব অভিযোগগুলো কি সত্যি?

যেমন দারাজ নিয়ে দেখতাম, বলত দারাজ খারাপ দারাজ খারাপ, অথচ দারাজ একটা মার্কেটপ্লেস, এখানে ভাল খারাপ সব রকমের সেলার আছে, আপনি সর্ট করে প্রাইস লো টু হাই দিয়ে কম দাম দেখে রিভিউ না দেখে একজন খারাপ সেলার থেকে অর্ডার দিয়ে পুরো দারাজকেই খারাপ বলে দিচ্ছেন। অথচ আপনি ভাল সেলার থেকে অর্ডার দিলেই আপনি ভাল প্রোডাক্টটা পেতেন। এখন দারাজ অনেক স্ট্রিক্ট হয়েছে। বাজে সেলারদের ফিল্টার করতেছে। এখন দারাজের রিটার্ন পলিসি আছে আগে যেটা ছিলনা। আমি দারাজ থেকেও মোবাইল কিনেছি। আমার হাতে ২টা স্মার্টফোন চালাই একটা দারাজ থেকে নেয়া আরেকটা ইভ্যালি থেকে নেয়া। লাগলে এগুলোর স্ক্রীনশট দেয়া যাবে। দারাজ এখন একটা স্ট্যাবল পজিশনে এসেছে এটা কিন্তু এক দিনে বা এক বছরে আসেনি। সময় লেগেছে কয়েক বছর। দারাজের একটা ঘটনা ভাইরাল হয়েছিল মোবাইল না দিয়ে সাবান দিয়েছিল। সবাই তখন গ্রুপে গ্রুপে দারাজকে গালি দিয়ে ভরিয়ে ফেলেছিলেন। অথচ পরে দেখা গেল এটা কুরিয়ার কোম্পানি থেকে হয়েছে। এখন কথা হচ্ছে না জেনে প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে নিয়ে এত বাজে কথা ছড়ানোর মানে কি? আপনি পরিচিত কোন ইভ্যালি সেলার এর ড্যাশবোর্ড দেইখেন যে, সে কত % ডেলিভারি করেনি। তাহলে রেশিওটা বুঝতে পারবেন। আপনি যেকোন সমস্যার সমাধানের জন্য সঠিক ওয়েতে যেতে হবে। যেমন আপনি দারাজ এ খারাপ প্রডাক্ট পেয়ে ফেসবুকে গালাগালি করলে, পোস্ট দিলে সমাধান হবেনা। আপনি রিটার্ন ইস্যু করতে হবে। আপনি সাইবার ক্রাইমের স্বীকার হলে থানায় গিয়ে জিডি করতে চান না, আপনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েই সমাধান চান তাহলে আপনার সমস্যার সমাধান হবে? প্রপার ওয়ে ফলো করুন। কেনাকাটার ক্ষেত্রে ওয়ে ফলো করার পর কাজ না হলে ভোক্তা অধিকার এ কমপ্লেইন করুন। 

ইভ্যালি কিভাবে এত অফার দিচ্ছে?

ইভ্যালি কিভাবে কি অফার দিচ্ছে সেটা ইভ্যালি ভাল বলতে পারবে। সেটা অবৈধ কিছু না হলেই হয়। এটা দেখার দায়িত্ব ল এনফোর্সমেন্ট অথবা ফিনান্সিয়াল এজেন্সীর। দারাজ ও ডাবল টাকা ভাউচার দেয়, লটারি দেয়। কিছুদিন আগে প্রিয়শপ লটারি টাইপ অফার দিয়ে ল্যাপটপ, বাইক, ক্যামেরা এগুলো সেল করেছিল। সেগুলোর কিছু কমপ্লেইন ও আপনি এখনো ফেসবুকে পাবেন। ফুডপান্ডা বাংলাদেশ এ এখন প্রফিট করছে কিনা আপনি জানেন? আমি করোনার সময় অনেকদিন ফুডপান্ডা ইউজ করেছিলাম। ১০০ টাকায় ৪৫ টাকা ছাড় ছিল, এখন চলছে ১২০ টাকায় ৫০ টাকা ছাড়। প্রতিযোগিতা কমিশন এটা নিয়ে কিছু বলেছে, ফুডপান্ডা এত ছাড় দিয়ে কিভাবে বিজনেস করছে? ইভ্যালি ইনভেস্ট করেছে ১০ টাকায় পেনড্রাইভ, ১৬ টাকায় টিশার্ট, প্রথম দিকের ৩০০%, ২০০% ভাউচার তখন তো আগে কাস্টমার এর কাছ থেকে টাকা নেয়া ছিলনা। এখন কাস্টমার এর টাকা নেয়া আছে, আর সেলারদের লেট করে পেমেন্ট দিচ্ছে এটার মধ্যে ব্যালেন্স করে সে বিজনেসটা গ্রো করছে। এটা আইনি নাকি বেআইনী এটা প্রশাসন দেখবে। ইভ্যালিতে ক্যাশ অন ডেলিভারি নেই। পেমেন্ট করতে হয় কার্ড/বিকাশ এ। এটা ট্রেস করা সম্ভব। এখন একটা কোম্পানি দাঁড়াতে স্মুথ হতে টাইম লাগবে। সেটার জন্য সময় দিতে হবে। এখন যেটা দেখার বিষয় কত% কাস্টমার প্রোডাক্ট পেয়েছে এবং সেলাররা পেমেন্ট পেয়েছে কিনা। এটা দেখুক আর মানি লন্ডারিং করেছে কিনা সেটা দেখুক।

ইভ্যালির যেটা সবচেয়ে বড় প্রবলেম ডেলিভারি এবং রিফান্ড, এগুলো নিয়ে কাজ চলছে, আপনারা এটা নিয়ে কোন রেগুলেশন করা যায় কিনা, কাস্টমার যেন রিফান্ড নিয়ে কোন ঝামেলায় না পড়ে এগুলো নিয়ে কথা বলুন। আর ওয়ালেট এর আইনগত ঝামেলা আছে বিধায়ই সে ওয়ালেট চেঞ্জ করে ব্যালেন্স দিয়েছে। তার মূল থীম হচ্ছে রিওয়ার্ড পয়েন্ট অর্থাৎ আপনি ১ লাখ দিয়ে বাইক কিনলে দেড় লাখ রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাবেন সেটা দিয়ে সমমুল্যের টাকার জিনিস আবার ইভ্যালি থেকে কিনতে পারবেন। এখন সবাই এটা বুঝবেনা দেখে টাকা হিসেবে উল্ল্যেখ কর দিয়েছে। এখন অনেকেই অনৈতিক উপায়ে টাকা ক্যাশ করতেছিল দেখে ৬০% ৪০% এর সিস্টমে এনেছে। এখন সে চাইলেই এটা না আনতে পারত। যে যার মত করে ক্যাশ করুক আমার কমিশন তো আমি পাচ্ছি ইভ্যালি এটা ভাবতে পারত। এগুলো নিয়ে আসলে অনেক কথা লেখা যাবে। লেখা বড় হয়ে যাবে দেখে শর্ট করতেছি।

ইভ্যালি এই অবস্থা থেকে কিভাবে বের হতে পারে?

আপনি নিজে কি কেনাকটা করেছেন? আপনি ১০টা কিনে ৮টার মধ্যে ঝামেলায় পড়লে একটা কথা ছিল। আপনি একটাও কিনেন নি, অন্য জনের ১টা নেগেটিভ ইস্যু নিয়ে ছড়াচ্ছেন। আমরা নেগেটিভ ইস্যুগুলো বেশি ছড়াই। যেমন ঐদিনের ছেলের ন্যুড হয়ে রেপ করতে চেয়েছে এমনটা ছড়িয়েছে অথচ পরে জানা গেল ঘটনা অন্য। তার অন্য ঘটনার জন্য বিচার চাওয়া যেতে পারে কিন্তু তাকে তো রেপের কথার জন্য বিচার করতে পারেন না। এর মধ্যে যারা কাস্টমার হিসেবে ইভ্যালি থেকে সুবিধা নিতে পারেনি, অথবা সেলার হিসেবে এখানে বিজনেস করতে পারেনি তারাই এগুলো বেশি ছড়াচ্ছে। আর যারা সত্যিই গ্রাহকের কথা ভেবে লেখালেখি করছেন আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

সবশেষে এটাই বলতে চাই, রাসেল সাহেব যদি দেশ বিরোধী/অবৈধ কিছু করে থাকে সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। কাস্টমার এবং সেলাররা যেন প্রতারিত না হয় সেটার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। এবং এগুলো যদি না হয়ে থাকে তাহলে দেশি ইকমার্স যেন তার ভুলগুলো শুধুরে আরো ভাল সার্ভিস নিয়ে ফিরে আসুক।

এত বড় লেখা পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

Post a Comment

0 Comments